পর্ব: পাঁচ

ঘুরে দেখা দুনিয়া লরা বেগলির তালিকা (পঞ্চম পর্ব)


  • জীবনজয়ী ডেস্ক  ঢাকা |
  • প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৮
ঘুরে দেখা দুনিয়া লরা বেগলির তালিকা (পঞ্চম পর্ব)
ছবি: এআই



ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই ব্লুমের তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্লুমের উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। 


পর্ব: ৫


২১. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা: স্বপ্নের শহরের এক টুকরো রঙিন মায়া

ভ্যাঙ্কুভার—নামটা শুনলেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল আকাশ, দূরদিগন্ত ছুঁয়ে থাকা পাহাড়, আর গভীর সবুজ বনানী। শহরের বাতাসে মিশে থাকে সাগরের নোনা গন্ধ, আর আকাশের এক কোণে সারাদিন রঙ বদলায় বরফঢাকা পাহাড়েরা। একটা শহর এত সুন্দর হতে পারে? যেতে ইচ্ছে করে না? সকালে উঠে হাতের মগে ধোঁয়া ওঠা কফি নিয়ে বসে থাকবো কোনো হার্বরের ধারে, নৌকাগুলো ধীরে ধীরে দুলবে, পেছনে সূর্যের আলো পড়ে সমুদ্রটা চকচক করবে। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাবো স্ট্যানলি পার্ক, লাল-হলুদ-কমলা রঙের শরতের পাতারা গালিচার মতো ছড়িয়ে থাকবে পথে। আহ্, জীবন যদি এমন হতো!

শহরটা যেন এক মায়াবি রঙিন ক্যানভাস। কখনো বরফের চাদরে মোড়া, কখনো ঝলমলে রোদে স্নান করা। এখানে রাত নামলেও শহর ঘুমায় না—সামুদ্রিক বাতাসে মিশে থাকে আলো-ঝলমলে রাস্তাগুলোর কোলাহল, আর ক্যাফের জানালা দিয়ে উঁকি দেয় উষ্ণতার গল্প। নরম আলোয় বই হাতে বসে থাকলে মনে হবে, এ শহর শুধু দেখার জন্য নয়, অনুভব করার জন্যও!



২২. লস অ্যাঞ্জেলেস: স্বপ্নের শহরে এক টুকরো রোদ্দুর

লস অ্যাঞ্জেলেস—শুধু একটা শহর না, যেন এক বিশাল সিনেমার সেট! আকাশজুড়ে নীলের আধিপত্য, আর রাস্তায় নামলেই মনে হবে তুমি কোনো হলিউড মুভির দৃশ্যের ভেতর ঢুকে পড়েছো। হাত বাড়ালেই তারকা, আর চোখের সামনে শুধু গ্ল্যামার! কিন্তু শহরের আসল রঙ ধরা পড়ে সন্ধ্যাবেলায়, যখন সূর্যটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সাগরের গহীনে, আর রাস্তার লাইটগুলো একে একে জ্বলে ওঠে। একটা উষ্ণ বাতাস বয়ে যায় ভেনিস বিচের ধারে, তুমি জুতো খুলে হাঁটছো বালিতে, ঢেউয়ের ছোঁয়া পায়ের পাতা ছুঁয়ে দিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এখানে এসে জীবন থমকে যাক, একটুখানি প্রশান্তির জন্য!

হলিউড সাইনটা পাহাড়ের ওপরে জ্বলজ্বল করছে, আর রাস্তার ধারে বীটবক্স বাজিয়ে একদল তরুণ নাচছে। ‘ওয়াক অফ ফেম’-এ হাঁটতে হাঁটতে তুমি দেখতে পাবে প্রিয় তারকার নাম খোদাই করা তারার ওপর ছোট্ট একগুচ্ছ ফুল রাখা আছে। হয়তো কোনো ভক্ত রেখে গেছে গভীর ভালোবাসা থেকে! এই শহরে আসলে স্বপ্ন ছোঁয়া যায়, বাস্তবের সাথে মিশে যায় সিনেমার মতোই রঙিন এক দুনিয়া।


২৩. ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা: বুনো ডাকের হাতছানি

এখানে জীবন চলে অন্য নিয়মে। এখানে সকালে ঘুম ভাঙে গা ছমছমে গর্জনের শব্দে, আর রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে গাছের ফাঁক দিয়ে। ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক—সিংহের রাজত্ব, হাতির মিছিল, আর বুনো প্রকৃতির এক উন্মুক্ত জাদুঘর। জঙ্গলের সরু পথে জিপের জানালার পাশে বসে আছো, হঠাৎ দেখলে—একটা চিতা ধীরে ধীরে পথ পার হচ্ছে, ঠিক সিনেমার মতো! একটু দূরেই ঘাসের মধ্যে মাথা তুলে তাকিয়ে আছে একটা জিরাফ, আর গাছের ছায়ায় অলস ভঙ্গিতে শুয়ে আছে সিংহের দল। এখানে প্রকৃতি তার আসল রূপে, অবাধ্য, অথচ দারুণ সুন্দর।

তাঁবুরএখানে সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে, গাঢ় লাল-কমলা রঙের সূর্যাস্তের ছায়া পড়ে নদীর জলে, আর রাতের বেলা শোনা যায় শেয়ালের ডাকে ভয় আর বিস্ময়ের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। রাতের অন্ধকারে শিবিরের বাইরে তাকালে দেখা যাবে, দূরে কোথাও আগুন জ্বলছে, আর সেটার আলোয় কখনো কখনো উদ্ভাসিত হয় একজোড়া চোখ—হয়তো বুনো কোনও প্রাণীর, তোমাকে দেখছে নীরবে। এখানে প্রতিটা মুহূর্ত যেন এক অজানা অভিযানের গল্প!


২৪. সান্তোরিনি, গ্রীস: নীল-সাদা রূপকথার শহর

সাদা দেয়ালের ছোট ছোট ঘর, নীল গম্বুজওয়ালা চার্চ, আর ঠিক তার সামনে গাঢ় নীল এজিয়ান সাগর—সান্তোরিনিকে দেখলে মনে হয়, স্বপ্নেরও হয়তো একটা রঙ থাকে! বিকেলের দিকে পুরো শহর যখন সোনালি আলোয় মাখামাখি, তখন মনে হয়, জীবনটা আসলে সিনেমার চেয়ে সুন্দর। এখানে এসে জানালার পাশে বসে থাকলে সময় কেমন থমকে যায়। এক হাতের মুঠোয় গ্রীক কফি, অন্য হাতে ছোট্ট একটা বকলোভা—হালকা মিষ্টি, একদম এই শহরের মতো। বাতাসে  ফুলের গন্ধ, আর সাগরের গর্জন। মনে হবে, এখানেই থেকে যাই সারাজীবন, কোনো তাড়া নেই, কোনো ব্যস্ততা নেই—শুধু শান্তি, আর নীলের রাজত্ব।

সন্ধ্যায় সাদা দেয়ালের ওপর পড়া কমলা রোদের আলোয় পুরো শহরটাকে মনে হয় একটা জলরঙের ছবি। ছোট ছোট সরু গলিতে হেঁটে গেলে দেখা যাবে, জানালার পাশে বসে থাকা কোনো  দম্পতি চা খেতে খেতে গল্প করছে, আর ছোট বাচ্চারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে পাথরের রাস্তার ওপর। এখানে রাত নামলেও আকাশ অন্ধকার হয় না, নীলচে আলোয় ভেসে যায় সাগরের পাড়। সান্তোরিনির রূপের কাছে হার মানে যেকোনো ফিল্মের সেট, হার মানে বাস্তবতাও।


২৫. মস্কো, রাশিয়া:

মস্কোর এক সঙ্গে বেজে উঠা চার্চের ঘন্টার শব্দ আপনাকে বিমোহিত করে দিবে। একই শহরে ৬০০ টি পুরাতন চার্চ! ভাবা যায়! সংস্কৃতি মনস্ক মানুষদের জন্য মস্কো এক অপরুপ নগরী। সুন্দর সুন্দর কালারফুল গম্বুজগুলো। আহ্! অসাধারণ! আপনি মস্কোর পথে প্রান্তরে হাঁটলে,পুরাতন সোভিয়েত জীবনের অনুভূতি পাবেন। মিউজিয়াম, ব্যালে নাচের অনুষ্ঠান আপনাকে ভুলিয়ে রাখবে। নিজেকে আরেক বিস্ময়কর পৃথিবীতে খোঁজে পাবেন। একবার মস্কো ঘুরে আসলে বারবার যেতে মন চাইবে। 



ক্যাটাগরি: ভ্রমণ

         

  রেটিং: ৫

এই বিভাগের আরও পোস্ট

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।